ঢাকা , Saturday, 30 May 2026
শিরোনাম :
মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস আর নেই উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন নাসিম সুলতান সোহেল বাগোয়ানে নাসিম সুলতান শেখের নেতৃত্বে মাসুদ অরুনের পক্ষে গণসংযোগ আফ্রিকায় আজ রাত ১০টায় মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা মেহেরপুরে পুলিশ সুপারের বাসভবনে আগুন বক্তব্য নিয়ে আলোচনায় আমিরুল ইসলাম, দিলেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও ঐক্যের বার্তা মানবিক সেবার ধারাবাহিকতায় রাজনীতিতে ডা. সজিবুল হক বার্সেলোনায় ফিরেই স্মৃতিময় মেসি, জানালেন ফেরার আশা বিরোধ বাড়ছে মেহেরপুরে, মনোনয়ন ইস্যুতে বিভক্ত বিএনপি নতুন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই ব্যবসা চলবে না: ডাকসু ভিপি

বিরোধ বাড়ছে মেহেরপুরে, মনোনয়ন ইস্যুতে বিভক্ত বিএনপি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে মেহেরপুরের দুই আসনে বিএনপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মেহেরপুর-১ এবং মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিরোধ নতুন করে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ নেতাকর্মীরাও দোটানায় পড়েছেন।
মেহেরপুর-১:
এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। মনোনয়ন ঘোষণার আগে স্থানীয় নেতারা একাধিক বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আশ্বাস দিলেও নির্বাচন সামনে রেখে সেই প্রতিশ্রুতি আর টেকেনি।
গত বছর জেলা কমিটি পুনর্গঠনের পর থেকেই নানান মতবিরোধ দানা বাঁধে—আহ্বায়ক হন জাভেদ মাসুদ মিল্টন, আর সদস্য সচিব হন অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। ওই বিভাজন এবার নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট হচ্ছে।
সদর এলাকায় কামরুলপন্থীরা টানা কর্মসূচি পালন করছেন—বিক্ষোভ, পথসভা থেকে শুরু করে স্লোগানভিত্তিক প্রতিবাদ পর্যন্ত। তাদের দাবি, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন হয়নি।
অন্যদিকে মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুণ ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতপন্থীরাও সক্রিয়; জামায়াতের তাজউদ্দিনের প্রচারণায় গ্রাম-গঞ্জে নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মেহেরপুর-২ (গাংনী): সংঘর্ষে উত্তেজনা
এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিপরীত পক্ষ মাঠে নেমে আসে।
অভ্যন্তরীণ পক্ষ–বিপক্ষ বিরোধ চরমে ওঠে মঙ্গলবার; সংঘর্ষ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে তৃণমূল পর্যন্ত বিভক্ত হয়ে পড়ে—কেউ কর্মসূচি ছেড়ে দিচ্ছেন, কেউ নিরপেক্ষ হয়ে যাচ্ছেন।
পরদিন গাংনীতে জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের কার্যালয়ে আহূত যৌথসভায় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি ওঠে। নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু। সভার সিদ্ধান্ত—আগামী ২০ দিন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে।
এ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হুদা নিয়মিত প্রচারণায় ব্যস্ত, যার ফলে গাংনীতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস আর নেই

বিরোধ বাড়ছে মেহেরপুরে, মনোনয়ন ইস্যুতে বিভক্ত বিএনপি

আপডেটের সময়: 01:33 pm, Monday, 10 November 2025

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে মেহেরপুরের দুই আসনে বিএনপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মেহেরপুর-১ এবং মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিরোধ নতুন করে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ নেতাকর্মীরাও দোটানায় পড়েছেন।
মেহেরপুর-১:
এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। মনোনয়ন ঘোষণার আগে স্থানীয় নেতারা একাধিক বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আশ্বাস দিলেও নির্বাচন সামনে রেখে সেই প্রতিশ্রুতি আর টেকেনি।
গত বছর জেলা কমিটি পুনর্গঠনের পর থেকেই নানান মতবিরোধ দানা বাঁধে—আহ্বায়ক হন জাভেদ মাসুদ মিল্টন, আর সদস্য সচিব হন অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান। ওই বিভাজন এবার নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট হচ্ছে।
সদর এলাকায় কামরুলপন্থীরা টানা কর্মসূচি পালন করছেন—বিক্ষোভ, পথসভা থেকে শুরু করে স্লোগানভিত্তিক প্রতিবাদ পর্যন্ত। তাদের দাবি, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন হয়নি।
অন্যদিকে মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুণ ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতপন্থীরাও সক্রিয়; জামায়াতের তাজউদ্দিনের প্রচারণায় গ্রাম-গঞ্জে নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মেহেরপুর-২ (গাংনী): সংঘর্ষে উত্তেজনা
এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিপরীত পক্ষ মাঠে নেমে আসে।
অভ্যন্তরীণ পক্ষ–বিপক্ষ বিরোধ চরমে ওঠে মঙ্গলবার; সংঘর্ষ, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে তৃণমূল পর্যন্ত বিভক্ত হয়ে পড়ে—কেউ কর্মসূচি ছেড়ে দিচ্ছেন, কেউ নিরপেক্ষ হয়ে যাচ্ছেন।
পরদিন গাংনীতে জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের কার্যালয়ে আহূত যৌথসভায় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি ওঠে। নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু। সভার সিদ্ধান্ত—আগামী ২০ দিন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে।
এ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হুদা নিয়মিত প্রচারণায় ব্যস্ত, যার ফলে গাংনীতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠছে।